এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের উপকূলে একটি বহির্গামী জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির নেতৃত্বাধীন এই সংস্থাটি নিয়মিতভাবে লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথের ওপর নজরদারি চালায়।ইউকেএমটিও-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান উপকূল থেকে মাত্র আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে একটি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি চালানো হয়।
হামলার পর জাহাজটি বর্তমানে গভীর সমুদ্রে স্থির অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় জাহাজের কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং এর ভেতরে থাকা নাবিক ও ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন।
কী কারণে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এর আগেও ওমানের উপকূলে একটি কন্টেইনার জাহাজে ইরানের হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ওমানের ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই হামলার খবর এল।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে এই নৌপথটি ক্রমাগত অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল এলাকা দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই ধরনের প্রতিটি হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথ পরিবহনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে ক্রমাগত এই ধরনের ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি।
ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বের অনেক বড় বড় বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে তেহরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যার প্রতিফলন সমুদ্রপথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে তাদের টহল জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। নিয়মিত বিরতিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার এই প্রবণতা বন্ধ না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন