এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১২:১১ এএম
আজ ২৫ এপ্রিল। ইতালির ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন। দেশজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে ‘ফেস্তা দেল্লা লিবেরাৎসিওনে’ বা ইতালির মুক্তি দিবস। ১৯৪৫ সালের এই বিশেষ দিনটিতে ইতালি নাৎসি বাহিনীর দখলদারিত্ব এবং বেনিতো মুসোলিনির নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে চূড়ান্ত মুক্তি লাভ করেছিল। ঐতিহাসিক এই দিনটি ইতালির সাধারণ মানুষের কাছে এক নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষলগ্নে ইতালির সাধারণ মানুষ এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধারা, যারা ‘পার্টিজান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তারা একজোট হয়ে নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন।
১৯৪৫ সালের এই দিনে ইতালির অন্যতম প্রধান দুই শিল্প নগরী মিলান এবং তুরিন আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত হয়। প্রতিরোধ যোদ্ধারা এই শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শক্তির ভিত নাড়িয়ে দেন। এই রক্তক্ষয়ী ও সাহসিকতাপূর্ণ আন্দোলনের ফলেই বেনিতো মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে।
এর মধ্য দিয়ে ইতালির মানুষ দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়ে বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায়।ঐতিহাসিকদের মতে, এটি কেবল একটি সামরিক জয় ছিল না। বরং এটি ছিল সাধারণ ছাত্র, শ্রমিক এবং কৃষকদের অদম্য সাহসের জয়। মুক্তির এই পথ ধরেই মূলত আধুনিক গণতান্ত্রিক ইতালির জন্ম হয়েছিল। স্বাধীনতার মাত্র এক বছর পর ১৯৪৬ সালে দেশটিতে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে ইতালির সাধারণ জনগণ রাজতন্ত্রের পরিবর্তে ‘প্রজাতন্ত্র’ বা গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দেন।
এই মুক্তির লড়াইয়ের মূল দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই ইতালির বর্তমান গণতান্ত্রিক সংবিধান রচিত হয়েছিল, যা আজও প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।আজকের এই বিশেষ দিনে ইতালির প্রতিটি কোনায় বেজে ওঠে বিখ্যাত গান ‘বেলা চ্যাও’। এই গানটি একসময় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল। বর্তমানে এই সুরটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অন্যায় এবং শোষণের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার এক বৈশ্বিক প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
ইতালির প্রতিটি শহরে আয়োজিত র্যালি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে এই গানটি আজও দেশপ্রেমের শিহরণ জাগিয়ে তোলে। দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এই দিনটির গুরুত্ব অনেক। কারণ ইতালি আজ যে স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের কথা বলে, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল আজকের এই দিনটিতেই।দিবসটি উপলক্ষে আজ পুরো ইতালিতে সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। রাজধানী রোমসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরের স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হচ্ছে।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও কুচকাওয়াজের মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে সেইসব শহীদদের, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। স্থানীয় ইতালীয়দের পাশাপাশি অভিবাসীরাও এই উৎসবে শামিল হয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন। মুক্তি দিবসের এই উদযাপন ইতালীয়দের কাছে কেবল একটি ছুটির দিন নয়, বরং এটি তাদের ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং গণতন্ত্রের শক্তিকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন