মে ১, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’-এর আইনি জটিলতা ও ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনি বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইন। মার্কিন সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানান।
ব্রুস ফেইন তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৩ সালে পাস হওয়া এই আইনটি অনেক ক্ষেত্রেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অস্পষ্ট। তাঁর মতে, কোনো সংবিধিবদ্ধ আইন মার্কিন সংবিধানকে ডিঙিয়ে যেতে পারে না।
সংবিধান অনুযায়ী, দেশ সরাসরি আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি থেকে যুদ্ধে রূপান্তরের অনুমোদন দেওয়ার একক ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। ইরানের ক্ষেত্রে ফেইন বলেন, তেহরান যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করেনি, তাই এই যুদ্ধটি ইরানের বিরুদ্ধে একটি অপরাধমূলক আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এই আইনের বড় দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক করে ব্রুস ফেইন জানান, প্রেসিডেন্ট চাইলে যেকোনো সময় যুদ্ধের সময়সীমা বা ‘ক্লক’ নতুন করে শুরু বা রিসেট করতে পারেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট যেকোনো মুহূর্তে বলতে পারেন যে গত ৩৭ মিনিট ধরে আমরা কোনো বোমা ফেলিনি, তাই যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আইনি মারপ্যাঁচে নতুন করে আবার ৬০ দিনের সময়সীমা শুরু করার সুযোগ পেতে পারেন।
রেজোলিউশনটির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে ফেইন আরও বলেন, এই আইনের কোথাও স্পষ্ট করে বলা নেই ঠিক কখন যুদ্ধের সময়সীমা শুরু হবে এবং ঠিক কখন তা থামবে। আইনের এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেসের তোয়াক্কা না করেই প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারেন। তিনি মনে করেন, আইনি এই জটিলতাগুলো প্রেসিডেন্টকে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সাক্ষাৎকারে ব্রুস ফেইন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন সংবিধানের মূল চেতনাকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধের ঘোষণা বা পরিচালনা করার ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের হাতে থাকা উচিত নয়। বর্তমানে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস যে আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরে ও বাইরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন