সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান যুদ্ধ নিয়ে টানাপোড়েন, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১০, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

ইরান যুদ্ধ নিয়ে টানাপোড়েন, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল

সম্পর্কে টানাপোড়েন দুই নেতার।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে দাবি করছেন যে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সমন্বয় চমৎকার এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই কথা হয়। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সংঘাতের কৌশল ও ফলাফল নিয়ে দুই নেতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে।

যুদ্ধের নেপথ্যে ‘ধূর্ত’ প্ররোচনা? রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালন পিঙ্কাস ও ডালিয়া শাইন্ডলিনের মতে, নেতানিয়াহু তাঁর স্বভাবসুলভ ধূর্ততায় ট্রাম্পকে বুঝিয়েছিলেন যে ইরানের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। 

ভেনিজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছিলেন, তিন-চার দিনের মধ্যেই এই যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন প্রমাণিত হয়েছে। ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন তো ঘটেইনি, উল্টো তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

অন্ধকারে ইসরায়েল, নজর এখন চীনের দিকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, মার্চের শেষ দিকে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম হতাশ হয়ে পড়েন। গত ৮ এপ্রিল যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হয়, তখন ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই ইরানি প্রতিপক্ষ ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে ওয়াশিংটন। এমনকি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলীতে ইসরায়েলের অগ্রাধিকার দেওয়া বিষয়গুলো (যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বা প্রক্সি বাহিনী) ঠাঁই পায়নি।

বর্তমানে ট্রাম্পের মনোযোগ ইরান থেকে সরে গিয়ে আগামী ১৪ মে চীন সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের দিকে নিবদ্ধ।রাজনৈতিক ভাগ্যের অনিশ্চয়তা এই সংঘাত ব্যালট বাক্সে উভয় নেতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুকে আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে জনমত জরিপ তাঁর পরাজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপের মুখে রয়েছেন। 

জন বোল্টনের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলে ট্রাম্প মূলত এটাই স্বীকার করে নেবেন যে তিনি ভুল যুদ্ধে প্ররোচিত হয়েছিলেন।এখন দেখার বিষয়, এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ মানচিত্রকে কোন দিকে নিয়ে যায়।