বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধে ইরান বিজয়ী, ব্রিটিশ সাংবাদিক হার্স্টের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ২৬, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

যুদ্ধে ইরান বিজয়ী, ব্রিটিশ সাংবাদিক হার্স্টের বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য এখন নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড হার্স্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বিশ্বরাজনীতিতে ইরান তার প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কৌশলী অবস্থান দিয়ে নতুন করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি ও ইসরায়েলি আধিপত্যের পরিকল্পনার সামনে ইরান এখন একটি শক্ত দেয়াল হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য এখন বড় ধরণের হুমকির মুখে।ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী আলোচনায় প্রতিটি দিন নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে। যখনই কোনো চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখনই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হস্তক্ষেপে তা ভেস্তে গেছে। 

হাসান আহমাদিয়ানের মতো বিশ্লেষকদের মতে, ইরানবিষয়ক অনেক চুক্তির শর্তই শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে, যা গত ২৫ বছরে তাদের ষষ্ঠ ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ইরানের হাতে এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মতো শক্তিশালী তাস রয়েছে।মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের একচেটিয়া অধিকার থাকলেও, ধারাবাহিক ভুল নীতির কারণে তারা আজ কোণঠাসা। জর্জ ডব্লিউ বুশ যেমন ভুল গোয়েন্দা তথ্যে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও মোসাদের সরবরাহ করা ভুল তথ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। নেতানিয়াহু ও মোসাদ পরিচালক ডেভিড বারনিয়া ট্রাম্পকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পতনের মুখে। 

কিন্তু বাস্তবে ইরানের টিকে থাকা ইসরায়েলি কৌশলের সম্পূর্ণ পরাজয় নিশ্চিত করেছে।নতুন আঞ্চলিক জোটের উত্থান ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।গত কয়েক বছরে সুন্নি আরব দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার যে প্রচেষ্টা চলেছে, তা কার্যত ব্যর্থ। সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং কাতারের মতো দেশগুলো এখন নতুন এক জোটের দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন সামরিক নিরাপত্তা ছাতার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহের ফলে এই নতুন আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান মজবুত করছে। পাকিস্তানের মতো পরমাণু শক্তিধর দেশের প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভাব এই নতুন সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ইরানের এই বিজয় এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা সুন্নি আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে করে দিয়েছে।ভবিষ্যতে হয়তো ইসরায়েল আবারও নতুন হামলার চেষ্টা করবে, কিন্তু নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার দেখছেন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং খ্রিস্টান সমর্থকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন ইসরায়েলি আধিপত্যের পথকে আরও সংকীর্ণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যম শক্তিগুলো এখন মার্কিন ও ইসরায়েলি আধিপত্যকে উপেক্ষা করেই নতুন স্থিতিশীলতার পথে এগোতে চাইছে।এই পরিবর্তনের ঢেউ এখন সমগ্র বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।