রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান চুক্তির নথি দেখে বড় পরিবর্তনের আভাস দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

ইরান চুক্তির নথি দেখে  বড় পরিবর্তনের আভাস দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার অবসানের লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিকে পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার মতো এক বড় বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বুধবার ফ্রান্সে আয়োজিত বহুজাতিক জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। 

তিনি জানান যে ইতিমধ্যে এই সমঝোতা চুক্তির একটি বিশেষ খসড়া নথি তিনি নিজে গভীরভাবে দেখেছেন যা তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাশাকেও অনেক ছাড়িয়ে গেছে। এই চুক্তিটি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তাঁরা খুবই সন্তুষ্ট এবং এটি ইরান যেন ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তার একটি সুনির্দিষ্ট স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করেছে।যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি শর্তসমূহ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে দুই দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের একটি বিশেষ আলোচনার মসৃণ পথ তৈরি হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানান যে এই ঐতিহাসিক সমঝোতার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং তেহরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কার্নি আরও মনে করেন যে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থাকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কৌশলগত পথের ওপর নির্ভরশীল রাখা মোটেও উচিত হবে না।

এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাজারে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানাডা সরাসরি বড় ধরনের সহায়তা দিতে পারে। ভবিষ্যতে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার আর্থিক প্রক্রিয়াতেও কানাডা কার্যকর ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানান। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সমঝোতা চুক্তিতে সরাসরি ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহর মতো অন্যতম অংশীজনদের কোনো অংশগ্রহণ না থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ওঠা তীব্র সমালোচনার বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী নতুন করে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

তথ্যসূত্র: সিবিসি নিউজ