আগস্ট ৬, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ইরানের আপসহীন নেতাদের বুঝতে ও তাদের সঙ্গে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার প্রস্তাবের মতো দ্বিমুখী কৌশল ব্যবহার করেও তিনি বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আচরণে তেহরান অবিশ্বাস্য রকমের কপটতা দেখাচ্ছে বলে গত সোমবার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজেকে অত্যন্ত দক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও ইরানের নেতৃত্ব তাকে বারবার হতবিহ্বল করে দিচ্ছে।সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করে জানান যে ইরানি নেতারা তাকে রাগিয়ে দিচ্ছেন। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে তেহরান তাদের অবস্থানে পুরোপুরি অনড় রয়েছে। ট্রাম্প এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন ভোক্তাদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক কেনেথ পোলাকের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত সেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি ইরানের নেতৃত্বকে সবচেয়ে কম বুঝতে পেরেছেন। ১৯৭৯ সালের পর থেকে প্রায় সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই তেহরানকে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যিনি দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন।
গত আটাশ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প দেশটিতে সরকার উৎখাতের সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হলেও ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেখানে কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি এবং তেহরানের বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো এখনো সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন