আগস্ট ৭, ২০২৬, ১২:১৮ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার মসজিদ এবং মন্দির থেকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণ বিধি বাস্তবায়নের নামে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আজানের মাইক সরিয়ে ফেলতে পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে যে বিভিন্ন মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতাদের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ বিধি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী দিনের বেলায় সর্বোচ্চ পঞ্চান্ন ডেসিবেল এবং রাতের বেলায় সর্বোচ্চ পঁয়তাল্লিশ ডেসিবেল শব্দের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান যে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ফলেই মসজিদ ও মন্দির মিলিয়ে মোট পাঁচ হাজার দুশো নিরানব্বইটি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে চার হাজার দুশো তিনটি মসজিদ থেকে এবং এক হাজার ৯৬টি মন্দির থেকে মাইক সরানো হয়েছে। মসজিদ ও মন্দিরের শব্দ যাতে নিজ নিজ প্রাঙ্গণের বাইরে না ছড়ায়, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই পদক্ষেপে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতারা এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রতিনিধিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশ জারি করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে যে আদালতের রায় ও আইন সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন