সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আর কোনো ধরনের লড়াইয়ে না জড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। ট্রাম্প দাবি করেন যে ওয়াশিংটন প্রশাসন ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইয়িংস্ট জানান ট্রাম্প তাঁকে স্পষ্ট বলেছেন যে ওয়াশিংটন হুথিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘাত থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছে। অথচ এমন সময়ে এই সমঝোতার দাবি প্রকাশ্যে এলো যখন অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুথিদের সংঘাত পরিহার সংক্রান্ত অনুরূপ দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত ১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ড সফরের সময় তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে হুথিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ফোন করে যুদ্ধ না করার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সে সময় তিনি জানান যে হুথি বিদ্রোহীরা নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো সংঘাত চায় না এবং একই সাথে মার্কিন বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুক সেটিও তারা প্রত্যাশা করে না। তবে ট্রাম্পের এই দাবি এমন এক সংকটজনক মুহূর্তে সামনে এলো যখন সৌদি আরব নতুন করে হুথিদের ভয়াবহ সামরিক হামলার মুখে পড়েছে।
গত শনিবারও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত বৈধ সরকারের কাছ থেকে দেশটির একের পর এক কৌশলগত ভূখণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে হুথি যোদ্ধারা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকট ও ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক পরিসরে বিমান হামলা পরিচালনা শুরু করে। এর ফলে বিগত প্রায় সাত মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম সামরিক অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিক ট্রে ইয়িংস্ট জানান ট্রাম্প তাঁকে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে খুব অদূর ভবিষ্যতে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন ইরানিদের পক্ষে এখন ভালো আচরণ করাই সবচেয়ে মঙ্গলজনক হবে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না তা নিয়েও ট্রাম্প গভীরভাবে বিবেচনা করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন