মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের লড়াইয়ে নিহত ৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের লড়াইয়ে নিহত ৮০

ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। মধ্যাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর মারিবের দক্ষিণাঞ্চলীয় হারেব, মালা ও উম রাইশসহ কয়েকটি এলাকায় এই তীব্র সংঘাতের খবর নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী।

যুদ্ধক্ষেত্রে হুথিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকারি বাহিনীর গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল হাতেমি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, হুথিদের আক্রমণ প্রতিহত করতে বিমান ও ড্রোনের সমন্বয়ে পাল্টা আঘাত চালানো হয়েছে। এই অভিযানের মুখে বিদ্রোহীরা কয়েকটি কৌশলগত অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। নিহতদের একটি বড় অংশ সম্মুখ সমরে প্রাণ হারিয়েছে বলে দাবি করা হলেও, হুথিদের পক্ষ থেকে এই হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনী মারিব প্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্রোহীদের সমবেত হওয়ার স্থান, অস্ত্রাগার ও রসদ সরবরাহ পথ লক্ষ্য করে একাধিক নিখুঁত বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। মারিব শহরটি ইয়েমেন সরকারের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান খনিগুলোর পাশাপাশি এখানে একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। গত এক দশকে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত ২০ লাখেরও বেশি মানুষ শহরটিতে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির আগে হুথিরা শহরটি দখলে একাধিক বড় অভিযান চালালেও তা সফল হয়নি।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদাহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন। সরকারি মুখপাত্র দাবি করেন, হুথিরা নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য প্রকাশ না করে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিদিন বহু বিদ্রোহী হতাহত হলেও তারা কেবল সীমিত অংশের তথ্য স্বীকার করে।

মারিব ছাড়াও সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে দেশটির অন্য অঞ্চলেও। তাইজ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত নুমান পাহাড়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। একই সাথে লোহিত সাগর উপকূলবর্তী কৌশলগত মোখা বন্দর এবং বাব আল মান্দাবের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্রগতি হয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে হুথিরা এখন লাহিজ প্রদেশের আল মাদারিবাহ ওয়াল আরাহ জেলার পাহাড়ি সামরিক চৌকিগুলোতে নতুন করে আক্রমণ চালাচ্ছে।