মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
আফগান সীমান্তে সংঘাত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মধ্যরাত ও ভোরে চালানো পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের পৃথক হামলায় অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির তালেবান প্রশাসন। সীমান্তজুড়ে সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে এই আক্রমণ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। আফগান বার্তাসংস্থা খামা প্রেস জানিয়েছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় প্রথম দফা বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী।

পাটান গ্রামের একটি বসতবাড়ি লক্ষ্য করে ওই আঘাত হানা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। তালেবান কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হলেও সোমবার সকাল পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কুনারে হামলার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর চারটার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। তালেবান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বারমালের তোর কান্দি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত দোকান এবং রাখা অঞ্চলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে পাকতিকার ঘটনায় নতুন করে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণঘাতী নাশকতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা ব্যাপক জোরদার করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের অভিযোগ, দেশটির অভ্যন্তরে কার্যক্রম চালানো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান ভূখণ্ডের নিরাপদ আশ্রয় থেকে এসব নাশকতা পরিচালনা করছে। তবে তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই দাবি বরাবরের মতো সরাসরি নাকচ করে আসছে। কাবুলের স্পষ্ট অবস্থান, কোনো অবস্থাতেই আফগান মাটি ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে সহিংসতা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে এই বিমান হামলার মাত্র এক দিন আগে খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে দুই সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ছয় পাকিস্তানি সেনাসদস্য নিহত হন। পাশাপাশি কোহাটে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক কয়েকটি নাশকতার পেছনে আফগান সীমান্ত অতিক্রম করে আসা সশস্ত্র যোদ্ধারা জড়িত বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। এসব ধারাবাহিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র অবকাঠামোর ওপর সামরিক চাপ আরও বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছিল।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান কাবুলের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণরেখা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানা টানাপোড়েন চলছে। এর আগেও আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে পাকিস্তানের বিমান হামলার নজির রয়েছে। ইসলামাবাদ এসব অভিযানকে টিটিপি ও তাদের সহযোগীদের ঘাঁটি ধ্বংসের অংশ হিসেবে তুলে ধরে আত্মরক্ষার অধিকারের যুক্তি উপস্থাপন করে আসছে। বিপরীতভাবে তালেবান প্রশাসন প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 

তাদের দাবি, সশস্ত্র স্থাপনার পরিবর্তে এমন আকস্মিক অভিযানে বারংবার সাধারণ নিরীহ নাগরিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কুনার ও পাকতিকায় চালানো সর্বশেষ এই বিমান হামলা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত সংকটকে পুনরায় তীব্র করে তুলেছে। এর ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও গভীর রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।