সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভূরাজনীতি এবং তাইওয়ান সংকট নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বিরল সফরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফরের পরপরই দুই পরাশক্তির মধ্যকার চলমান তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধে সাময়িক বিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মুখে পূর্বে ঘোষিত বাণিজ্য শুল্ক স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই মাসের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংঘাত এড়িয়ে বাণিজ্য বিরোধ মেটানোর পথে হাঁটছে দুই দেশ। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, উভয় পক্ষই বিদ্যমান উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং নতুন করে কোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে সর্বসম্মত হয়েছে। পূর্বে কার্যকর থাকা বাণিজ্য বিরতির সময়সীমা চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সাম্প্রতিক এই শীর্ষ সমঝোতার ফলে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বিরতিকে একটি স্থায়ী চুক্তির রূপরেখা দেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতিও চলছে। আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই যুদ্ধবিরতিকে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ দিতে পারেন কিনা, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সাথে বৈঠক শেষ হওয়ার পরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বাণিজ্য বিরোধ হ্রাসের পাশাপাশি আর্থিক সেবা খাত উন্মুক্তকরণ এবং অতিরিক্ত মার্কিন কৃষি পণ্য ক্রয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রেও নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত এসেছে। কূটনৈতিক পরিসরে তিন দিনের এই সফরে চীনা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় পর কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম মার্কিন মাটিতে আনুষ্ঠানিক সফর। দীর্ঘদিনের প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানদের হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানানোর প্রথা থাকলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত হয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করেন। একশত ফুট দীর্ঘ লাল গালিচার দুই পাশে সামরিক সম্মাননা গার্ড, বিমানবাহিনীর বিশেষ মহড়া এবং ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়। সমঝোতার ভিত্তি রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় করতেই এই রাজকীয় আয়োজন করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন কূটনীতিকেরা।
তবে আপাত উষ্ণতার আড়ালে দীর্ঘদিনের গভীর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক মতপার্থক্য এখনো অমীমাংসিত। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিরল খনিজ পদার্থ সরবরাহ এবং উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে শর্ত শিথিল করার ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তাইওয়ান প্রণালির সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী কঠোর অবস্থান বিদ্যমান রয়েছে। তবুও সফরে পৌঁছে বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির বৃহত্তর স্বার্থে উভয় দেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে অংশীদার ও সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন