রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে হতাশ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে হতাশ ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ও উষ্ণ কূটনৈতিক সম্ভাষণের মধ্য দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুই বিশ্বনেতার মধ্যকার বহুপ্রতীক্ষিত এই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সৌজন্য ও রাষ্ট্রীয় আড়ম্বরের কোনো কমতি ছিল না। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সংঘাত, তাইওয়ান কিংবা ইরান সংকটের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যুগুলোতে বড় ধরনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা চুক্তির দেখা মেলেনি। বৈঠক শেষে দুই শীর্ষ নেতা এবং তাঁদের স্ত্রীদের সম্মানে হোয়াইট হাউসে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

কালো টাইয়ের আনুষ্ঠানিক পোশাকে আয়োজিত ওই নৈশভোজে তিলের আবরণে বিশেষ পরিবেশনায় শি-বাসসহ বিভিন্ন উপাদেয় পদ রাখা হয়েছিল। ডিনারে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউসের ভেতর যখন এই রাজকীয় পরিবেশ, বাইরে তখন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। একদল বিক্ষোভকারী ভবনের বাইরে অবস্থান নিয়ে চীনবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এমনকি লালগালিচা পাতা সিঁড়িতে দুই নেতা যখন যৌথ ছবির জন্য পোজ দিচ্ছিলেন, তখনো বাইরে থেকে বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের শব্দ ভেসে আসছিল।

নৈশভোজে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের বিপরীতমুখী রাজনৈতিক ব্যবস্থার পার্থক্যের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই নেতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করলেও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক চমৎকার এবং তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জোরালো। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যেও আত্মিক যোগাযোগ বিদ্যমান রয়েছে।

ডিনারের পর আমন্ত্রিত অতিথিদের হোয়াইট হাউসে নির্মাণাধীন একটি নতুন বলরুম ঘুরিয়ে দেখান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি চীনা প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সে নতুন নির্মিত একটি হেলিপ্যাড দেখিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনের সরকারি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে নিজের ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রতিফলন তিনি এই আয়োজনে তুলে ধরেন।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে দুই পক্ষ একটি অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে পেরেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, এই আলোচনা বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্কে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং পরাশক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনায় উদ্ভাবনী পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে তাইওয়ান প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন শি জিনপিং। তিনি ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানের যেকোনো ধরনের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। বৈঠক চলাকালীন এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের নিজস্ব বিস্তারিত নথি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছিল, শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অস্ত্র বিক্রি পুরোপুরি বন্ধের দাবি তুলবেন।

এর আগে মে মাসে চীন সফরের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ তিনি অনুমোদন না দিয়ে স্থগিত করে রেখেছেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর-কষাকষিতে এটিকে তিনি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন।

ট্রাম্পের ওই অবস্থান নিয়ে এশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের পাশাপাশি তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও কয়েকজন সদস্য তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, বাণিজ্য সুবিধা আদায় করতে গিয়ে তাইওয়ানের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক নিরাপত্তার সাথে আপস করতে পারে ওয়াশিংটন। চীন বরাবরের মতোই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছে।