রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগে আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যর্থ: আইরিশ প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগে আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যর্থ: আইরিশ প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘস্থায়ী চরম মানবিক দুর্ভোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে কড়া মন্তব্য করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। অব্যাহত সামরিক সহিংসতা এবং অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ফিলিস্তিনে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার সব পথকে উত্তরোত্তর কঠিন করে তুলছে বলে তিনি সতর্ক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় বিশ্বনেতাদের সামনে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক চাপের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই প্রবণতাকে তিনি সমকালীন পৃথিবীর অন্যতম গুরুতর ও বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফিলিস্তিনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ চলছে, তা প্রশমনে সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রাথমিক স্তরকে তিনি নীতিগতভাবে স্বাগত জানান। তবে সেই রাজনৈতিক উদ্যোগের পরও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো দৃশ্যমান ও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়নি বলে তিনি গভীর হতাশা ব্যক্ত করেন। বক্তব্যে তিনি গাজা উপত্যকাজুড়ে অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলা, জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার পথ রুদ্ধ করে রাখা এবং সাধারণ বেসামরিক মানুষের অন্তহীন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন। একই সাথে তিনি যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভূমিকা নিয়ে নিজ দেশের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

মিহল মার্টিন স্পষ্ট করেন, যেকোনো ধরনের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির কোনো আইনি সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও স্বাধীন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত বা দুর্বল করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বন্ধের জোর আহ্বান জানান। জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘ মহাসচিবও অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, গাজায় ত্রাণ প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আইরিশ প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গাজায় যেসব ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় সংঘটিত হয়েছে, তার ঐতিহাসিক দায় এবং চরম পরিণতি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনোভাবেই নিজেদের পাশ কাটিয়ে যেতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এসব সংকটের সুদূরপ্রসারী নৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বব্যবস্থায় তীব্রভাবে অনুভূত হবে।