মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
দীনেশ ত্রিবেদী

তারেক রহমানের সফর ও দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

তারেক রহমানের সফর ও দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এক অনির্ধারিত সফরে দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১টায় দিল্লির স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিবিসিকে আভাস দিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপাক্ষিক আরও নানা ইস্যু নিয়ে ঢাকার বর্তমান মনোভাব ঠিক কী, সেই বার্তা পৌঁছে দিতেই মূলত তার এই আকস্মিক দিল্লি সফর।

এর আগে গত সোমবার রাতে নির্ধারিত ফ্লাইটের বাইরে হঠাৎ করেই ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন দীনেশ ত্রিবেদী। তবে তার এই সফর নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে দীনেশ ত্রিবেদীই প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রদূত যাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টি’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার নিয়োগ সরাসরি চূড়ান্ত করেছিল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ফলে দিল্লিতে গেলে তিনি সচরাচর অন্য পেশাদার বা ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা করে রিপোর্ট না করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। এবারেও সেই কূটনৈতিক রেওয়াজের কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের নানা সমীকরণে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা অনেকটাদূর এগোলেও তা এখনো চূড়ান্ত রূপ লাভ করেনি। পাশাপাশি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার জন্য ঢাকার দীর্ঘদিনের দাবি দিল্লি এখনও ঝুলিয়ে রেখেছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি প্রবল অস্বস্তির উপাদান হয়ে টিকে আছে। তাছাড়া, ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়েও দুই সরকারের মধ্যে আলোচনায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি ভাগাভাগির চুক্তি। ফলে সমস্ত জটিল সমীকরণের মাঝেই হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই হঠাৎ দিল্লি সফর নতুন কোনো বার্তার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।