অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
বিশ্বের ১১৮টি দেশের ৬১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫৯ জন মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শরীরের প্রায় সব প্রধান অঙ্গে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি ব্যথা অনুভব করেন। ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য নিয়ে পরিচালিত এই বিশদ সমীক্ষাটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী ব্যক্তি পর্যন্ত এই পর্যালোচনার আওতায় ছিলেন। গবেষকরা মাথা, মুখ, ঘাড় বা কাঁধ, পা বা গোড়ালি, হাত বা কবজি, কনুই, বুক, পিঠ, পেট, কোমর ও হাঁটু—এই ১১টি সুনির্দিষ্ট অংশে ব্যথার তীব্রতা নিরূপণ করেছেন।
সমীক্ষার আওতাভুক্ত প্রতিটি অঙ্গেই নারীদের ব্যথার হার পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি। সবচেয়ে প্রকট পার্থক্য ধরা পড়েছে মুখ, মাথা ও পেটের ব্যথায়। মুখের ব্যথায় নারীদের ভোগান্তির হার পুরুষদের চেয়ে প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি। মাথাব্যথায় এই ব্যবধান প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং পেটের ব্যথায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি দেখা গেছে। সার্বিকভাবে যেকোনো শারীরিক ব্যথার ক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি পুরুষদের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। তীব্র বা উচ্চমাত্রার ব্যথায় নারীদের হার পুরুষদের চেয়ে প্রায় ৫২ শতাংশ বেশি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক ব্যথার বিস্তার বাড়ে। তীব্র ব্যথা সাধারণত মধ্যবয়স ও পরবর্তী প্রাপ্তবয়স্ক সময়ে চূড়ায় ওঠে। উচ্চমাত্রার ব্যথা প্রায় ৫০ বছর বয়সে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া সার্বিক ব্যথা প্রায় ৭০ বছর বয়সে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। ৫৫ বছর বয়সের আগেই ব্যথার দ্রুত বিস্তার ঘটে। তবে অঙ্গভেদে সময়ের রূপ ভিন্ন। মাথাব্যথা ও পেটের ব্যথা তুলনামূলক কম বয়সে শীর্ষে পৌঁছে যায়। কোমর, পিঠ ও হাঁটুর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকে।
আর্থসামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে ব্যথার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যেসব দেশের মানব উন্নয়ন সূচক কম, সেখানে ৪০ বছর পেরোতেই অস্থিসন্ধি ও পিঠের ব্যথা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ৮০ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশে ব্যথার হার উন্নত অঞ্চলের চেয়ে প্রায় ৩১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন ও কম আয়ের মতো পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো বিশ্বব্যাপী ব্যথার সামগ্রিক মাত্রার প্রায় ১৮ শতাংশের ব্যাখ্যা দেয়। তবে স্বল্পোন্নত অঞ্চলের অতিরিক্ত ব্যথার সিংহভাগ কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, ব্যথা নিরাময়ে নারী ও পুরুষের স্বতন্ত্র শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা জরুরি। উভয় পক্ষের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি প্রয়োগ কার্যকর না-ও হতে পারে। গবেষণায় একই ব্যক্তিকে দীর্ঘ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ না করে বিভিন্ন বয়সীদের সমান্তরাল তথ্য তুলনা করা হলেও, বিশ্বজুড়ে ব্যথার ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধান নিরসনে এই সমীক্ষা নতুন চিকিৎসা পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন