অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
মৎস্য খাতের সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এ খাতে আরও বেশি বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের অপচয় বন্ধ করে এর যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও তিনি সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘মৎস্যখাতে বাজেট ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঐতিহ্যবাহী ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচয়ের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন যে প্রাকৃতিক জলাশয় সংকুচিত হওয়া এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা দিন দিন কমে আসছে। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভয়াশ্রমের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ ব্যয় করলেই চলবে না, নির্দিষ্ট অভয়াশ্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে তা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।
মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করাই অভয়াশ্রমের মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথায় কত টাকা ব্যয় হলো, সেই অর্থে প্রকৃতপক্ষে কী কাজ বাস্তবায়িত হলো এবং মাছের উৎপাদনে তার প্রকৃত প্রভাব কতখানি— এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। মৎস্যজীবীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন, তাই স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক টুনা আহরণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। তবে কেবল জরিপ পরিচালনা ও অর্থ অপচয় না করে জরিপের ফলাফল কীভাবে মাঠপর্যায়ে মৎস্য আহরণে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা জরুরি। গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ কাজে লাগাতে দেশকে দক্ষ জনবল, উপযুক্ত জাহাজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মৎস্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারক করার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, এর মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাত আরও বহুদদূর এগিয়ে যাবে। মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নদী-নালা, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়কে মৎস্য উৎপাদনের আওতায় আনতে বর্তমান সরকার জোরালোভাবে কাজ করছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দূষণমুক্ত জলাশয় ও নদ-নদী এবং নদীর নাব্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্যপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাজার বাড়াতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ। কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন