আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
নেদারল্যান্ডসের আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশে শুরু হয়েছে মাছ চাষের এক নীরব বিপ্লব। ডাচ ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ‘ফুডটেক বাংলাদেশ’ নামের একটি মেগা প্রকল্পের আওতায় দেশে চালু হয়েছে সর্বাধুনিক আরএএস এবং আইপিআরএস প্রযুক্তি।এই পদ্ধতিতে কম জায়গায় ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।
রিসার্কুলেটিং অ্যাকোয়াকালচার সিস্টেম বা আরএএস প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঘরের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ চাষ করা যায়। একই পানি বারবার ফিল্টার করে ব্যবহার করায় পানির কোনো অপচয় হয় না। সাধারণ পুকুরের চেয়ে এই পদ্ধতিতে বছরে তিন থেকে চার বার একই জায়গায় মাছের ফলন পাওয়া যায়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থাকায় মাছের রোগবালাই ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং কোনো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হয় না।
অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত এসব নিরাপদ মাছ ইউরোপ ও আমেরিকায় সহজেই রপ্তানি করা যাবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবার দেওয়ার কারণে খাদ্যের অপচয় কমে এবং উৎপাদন খরচ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সাশ্রয় হয়।প্রযুক্তিটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ময়মনসিংহ, খুলনা, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে চারটি ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রান্তিক চাষিদের এই আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ এবং কৃষি খাতের জিডিপির প্রায় সাড়ে ২৬ শতাংশ আসে মৎস্য খাত থেকে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ। নতুন এই প্রযুক্তি প্রান্তিক চাষিদের কাছে সফলভাবে পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন