অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর প্রতিবছর বিজয়ীদের নামের সঙ্গে একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে। যেখানে আধুনিক ক্যামেরার রঙিন ছবির বদলে সামনে আসে গাঢ় কালো রেখায় মুখের স্পষ্ট অবয়ব এবং তার সঙ্গে চকচকে সোনালি আভা যুক্ত বিশেষ হাতে আঁকা প্রতিকৃতি।
এই বিশেষ রীতির সূচনা হয়েছিল মূলত একটি বাস্তবসম্মত সংকটের মধ্য দিয়ে।
২০১২ সালে সুইডিশ চিত্রশিল্পী নিকোলাস এলমেহেড নোবেল মিডিয়ার আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরপরই অনেক বিজয়ীর উপযুক্ত ও উচ্চমানের ছবি দ্রুত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ত। বিশ্বজুড়ে সংবাদের প্রয়োজনে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ছবির প্রয়োজন হলেও ঝাপসা বা নিম্নমানের ছবি ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। আবার ভালো ছবির অপেক্ষায় থাকলে তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রকাশও বিলম্বিত হতো।
এই জটিলতা কাটাতে শিল্পী নিকোলাস এলমেহেড দ্রুততম সময়ে নিজের হাতে বিজয়ীদের প্রতিকৃতি আঁকা শুরু করেন।
প্রথমে প্রয়োজনীয়তার তাগিদে কাজটি শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই হাতে আঁকা শৈলী নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব পরিচিতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। এসব ছবির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্পষ্ট কালো রেখা। অতিরিক্ত রঙের অনুপস্থিতি ও জটিল শেডিং না থাকার কারণে মোবাইল ফোনের ছোট পর্দা থেকে শুরু করে সংবাদপত্রের পাতায় ছবিগুলো সমানভাবে স্পষ্ট দেখায়। একই ধাঁচের কাজের মাধ্যমে সব বিজয়ীর জন্য তৈরি হয় একটি অভিন্ন আন্তর্জাতিক ভিজ্যুয়াল রূপ।
তবে শুরুতেই এই প্রতিকৃতিগুলোতে সোনালি রঙের ছোঁয়া ছিল না।
২০১৭ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ড পরিচয়ে সমন্বয় এনে নোবেল মেডেলের সাথে মিল রেখে সোনালি রঙের ওপর গুরুত্ব দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সাল থেকে শিল্পী এলমেহেড প্রতিকৃতিগুলোতে যুক্ত করতে শুরু করেন সোনালি পাত বা গোল্ড ফয়েল।
এসব প্রতিকৃতির সোনালি অংশ কম্পিউটার গ্রাফিক্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি কোনো নকশা নয়। শিল্পী নিজ হাতে বিশেষ আঠার সাহায্যে আসল ধাতব সোনার পাত কাগজে বসিয়ে প্রতিটি ছবি সম্পূর্ণ করেন। ফলে প্রতিটি কাজেই সংরক্ষিত থাকে হাতে তৈরি বিশুদ্ধ শিল্পকর্মের নিজস্ব মূল্য। একসময় জরুরি সমাধান হিসেবে তৈরি হওয়া এই পদ্ধতি বর্তমানে নোবেল পুরস্কারের অন্যতম স্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন