অক্টোবর ১১, ২০২৫, ১২:৪৪ পিএম
দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজ ভূমি উত্তর গাজার দিকে ফিরতে শুরু করেছেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর পায়ে হেঁটে, গাধার গাড়িতে বা লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনে করে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। মাটির টানে নিজ ঘরে ফেরার স্বস্তি তাদের চোখেমুখে, তবে সঙ্গে আছে স্বজন হারানোর বেদনা আর সর্বস্ব হারানোর হাহাকার।
ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় বাস্তুচ্যুত হওয়া গাজার প্রায় ২৩ লাখ বাসিন্দার অনেকেই ফিরছেন একরাশ অনিশ্চয়তা আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে। খান ইউনিসে ফেরা ৩২ বছর বয়সী আমির আবু ইয়াদে বলেন, “এই অবস্থার জন্য (ঘরে ফিরতে পারা) আল্লাহর শোকর করি, যদিও আমরা ক্ষত আর বেদনায় পরিপূর্ণ মন নিয়ে আমাদের এলাকায় ফিরে যাচ্ছি।”
যুদ্ধবিরতি হওয়ায় অবশেষে নিজের বাড়ির পথে চলতে শুরু করা ৫৩ বছর বয়সী আরিজ আবু সাদেহ বলেন, “আমি এই শান্তি চুক্তিতে খুশি, যদিও আমি আমার এক ছেলে ও এক মেয়েকে হারিয়েছি। তবুও, যুদ্ধবিরতির মধ্যে একটা আনন্দ আছে—আমরা ঘরে ফিরছি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসের হাতে থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের এবং ইসরায়েলের কারাগারে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
যুদ্ধ থামার খবরে স্বস্তি ফিরলেও, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে উপত্যকার বাতাস।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন