সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরাইলে কাদিয়ানী সম্মেলনে ইহুদিদের উপস্থিতি: খতমে নবুওয়তের উদ্বেগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

ইসরাইলে কাদিয়ানী সম্মেলনে ইহুদিদের উপস্থিতি: খতমে নবুওয়তের উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইসরাইলে আয়োজিত কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মহাসম্মেলনে বহিরাগত ও ইহুদিদের ব্যাপক উপস্থিতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ। রোববার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক জরুরি বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলের মাটিতে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বৃহৎ সমাবেশ এবং সেখানে জায়নবাদী ইহুদিদের ব্যাপক উপস্থিতি ও প্রকাশ্য সখ্যতা বিশ্ব মুসলিমের জন্য এক গুরুতর সংকেত বহন করে। 

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা ও মুসলিম বিশ্বের সংকটময় প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। এর পেছনের গোপন উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং মুসলিম সমাজে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে গভীর ও সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। সম্মেলনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খতমে নবুওয়তের এই শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, ইসরাইলে কাদিয়ানীদের এই সমাবেশ নতুন কোনো বার্তা দিচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ যদি মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি, তথ্যযুদ্ধ পরিচালনা, জনমতকে প্রভাবিত করা কিংবা অভ্যন্তরীণ অনৈক্য সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ গবেষণামূলক বিশ্লেষণের ওপর জোর দেন তিনি।

মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী আরও বলেন, কাদিয়ানীদের কৌশলগত তৎপরতা কেবল কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ভৌগোলিক সীমানার একক সংকট নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ঈমান ও মৌলিক বিশ্বাসের ওপর এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত আলেমসমাজ, ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের তাৎক্ষণিক আবেগ বা গুজবের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবমুখী ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। 

যেকোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা যেমন অনুচিত, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইঙ্গিতকে অবহেলা করাও মারাত্মক ভুল হিসেবে গণ্য হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। বিবৃতির শেষাংশে মুসলিম উম্মাহর বিশ্বাসগত নিরাপত্তা ও সার্বিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সব তৎপরতার ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখার তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে সর্বস্তরের মুসলিম জনতাকে উসকানিতে পা না দিয়ে শান্ত থেকে সচেতনতার সাথে পরিস্থিতি পর্যালোচনার অনুরোধ জানান এই ইসলামি বক্তা।