সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
একসাথে আরও শক্তিশালী জলাতঙ্ক মুক্ত বিশ্ব গড়ি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি ও আলোচনা সভা শেষে স্থানীয়দের পোষা কুকুর ও বিড়ালকে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. আশিকা আকবর তৃষা জানান, সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যুবরণ করে।
এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও কিশোর। তবে সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক টিকা গ্রহণ করা গেলে এই রোগ শতভাগ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তিনি উল্লেখ করেন, জলাতঙ্ক একটি জুনোটিক রোগ যা যেকোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে সংক্রামিত হতে পারে। একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে এর কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই। তাই একমাত্র সচেতনতা ও সময়মতো টিকাদানই জীবন রক্ষার কার্যকর উপায়। একই সাথে তিনি বেওয়ারিশ ও মালিকবিহীন প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং তাদের নিয়মিত খাদ্যের সংস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী পরিচালিত এই ফ্রি টিকাদান কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকেরা তাদের পোষা কুকুর ও বিড়াল নিয়ে এসে বিনামূল্যে টিকা গ্রহণ করান। অনুষ্ঠানে প্রাণী ব্যবস্থাপনার জরুরি নিয়মাবলী তুলে ধরে ডা. আশিকা আকবর তৃষা জানান, কোনো প্রাণী যখন খাবার খায় বা ঘুমায় তখন তাকে অহেতুক বিরক্ত করা উচিত নয়। দুটি প্রাণী পরস্পরের সাথে লড়াই বা ঝগড়া করার সময় খালি হাতে তাদের আলাদা করতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
কোনো প্রাণীকে ভয় দেখানো বা রাগানো যাবে না এবং অপরিচিত যেকোনো প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। গৃহপালিত পোষা প্রাণীকে যাতে বন্য প্রাণীর সাথে মিশতে না দেওয়া হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। জলাতঙ্ক মূলত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় ও লালার মাধ্যমে ছড়ায় বলে তিনি সকলকে সতর্ক করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন