রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফিলিস্তিন নিয়ে ওমান সুলতানের সঙ্গে যে আলোচনা হলো এরদোয়ানের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৮:০২ পিএম

ফিলিস্তিন নিয়ে ওমান সুলতানের সঙ্গে যে আলোচনা হলো এরদোয়ানের

ছবি - সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এরই অংশ হিসেবে তিনি বৃহস্পতিবার ওমান সফর করেন এবং দেশটির সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। ওমানের রাজধানী মাস্কাটের আল আলম প্রাসাদে অনুষ্ঠিত।

এই বৈঠকে দুই নেতা ফিলিস্তিন ইস্যুতে একযোগে অবস্থান গ্রহণ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে তাদের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে। এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।

তুর্কি কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং সুলতান হাইথামের মধ্যকার বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফিলিস্তিনি সংকট। উভয় নেতাই মনে করেন, এই দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে সংলাপ এবং মধ্যস্থতার কোনো বিকল্প নেই। তারা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি তাদের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে जारी করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং সুলতান হাইথাম দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। বিশেষ করে শিল্প, প্রতিরক্ষা খাত, অর্থনীতি এবং যোগাযোগসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, “অনেক বিষয়ে—বিশেষত ফিলিস্তিনি প্রশ্নে—তুরস্ক এবং ওমানের অবস্থান সম্পূর্ণ অভিন্ন।” এটি প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে মুসলিম বিশ্বের এই দুটি প্রভাবশালী দেশের মধ্যে শক্তিশালী বোঝাপড়া রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, তুরস্ক এবং ওমান বহুদিনের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভাগাভাগি করে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার এই সফর দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান এই শক্তিশালী সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করেছে। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে দুই নেতা গাজায় দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টা চালানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওমানের দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতাকারী এবং সংলাপ সহায়তাকারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে থাকার এবং তাদের অধিকার আদায়ে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই সফরের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন। বৈঠকের শেষে তুরস্ক এবং ওমানের মধ্যে বিভিন্ন খাতে মোট ১৬টি নতুন চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলো অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের এই ওমান সফর এবং সুলতানের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাব এবং ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে তার সক্রিয় ভূমিকারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।