অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০৯:৪০ এএম
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) চালানো এই হামলায় কমপক্ষে ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ রাফাহ এলাকায় ইসরাইলি সেনা ও অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে দেশটির সেনাবাহিনী এই ব্যাপক হামলা চালায় বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে। রাফাহর ওই গুলি বিনিময়ের ঘটনায় একজন ইসরাইলি সেনা আহত হয়।
গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপর থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ঘটলেও মঙ্গলবারের হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী। এই হামলার ফলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করার প্রতিক্রিয়াতেই এই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী হামাসের কাছে থাকা ১৩ জন ইসরাইলি বন্দির মৃতদেহ হস্তান্তর করার কথা থাকলেও হামাস তা করেনি, যা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।তবে হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসসাম ব্রিগেড ইসরাইলের বিরুদ্ধেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে তারা এক বন্দির লাশ হস্তান্তরের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা বাকি ১৩ বন্দির লাশ অনুসন্ধান, খনন ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং এতে আরও বিলম্ব ঘটবে। হামাস আরও জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধারের জন্য বিশেষজ্ঞ দল ও ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, যা ইসরাইল পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করেনি। হামাস রাফাহর গুলি বিনিময়ের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছে।
এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয় পক্ষের হামলার অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে বলে দাবি করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ তো ঘটতেই পারে। আমরা জানি, হামাস কিংবা গাজার কেউ একজন ইসরাইলি সেনাকে আক্রমণ করেছে। ইসরাইল তার জবাব দেবে-এটা স্বাভাবিক। তবে প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প) প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত শান্তি টিকে থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’নেতানিয়াহুর নতুন এই হামলার নির্দেশে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও চরম অবনতির দিকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন