রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাজা ইস্যুতে জার্মানির নীরবতাকে দুষলেন এরদোয়ান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৭:১৭ পিএম

গাজা ইস্যুতে জার্মানির নীরবতাকে দুষলেন এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই মানবিক সংকটে জার্মানির নীরবতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) আঙ্কারায় সফররত জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জার্মানিকে এই সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “ইসরাইলের হামলায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ প্রায় ৬০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে।” তিনি দুই পক্ষের সামরিক শক্তির অসমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ফিলিস্তিনি দল হামাসের কাছে বোমা বা পারমাণবিক অস্ত্র নেই, কিন্তু ইসরাইলের আছে এবং তারা তা ব্যবহার করেছে। জার্মানি, তুমি কি এটা দেখতে পাচ্ছ না?”

তুর্কি প্রেসিডেন্ট গাজায় এই নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধ করা, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থায়ী শান্তির জন্য দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাই, তেমনি গাজার ওপর ইসরাইলের যুদ্ধের অবসানকেও সমর্থন করি। তুরস্ক ও জার্মানি দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ যা মিলিতভাবে এটি অর্জন করতে পারে।”

এরদোয়ান আরও জানান, তুরস্কের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গাজায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা ১,০০,০০০ টনেরও বেশি খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছি, কিন্তু অব্যাহত সহায়তা অপরিহার্য। জার্মানির রেড ক্রস ও আমাদের তুর্কি রেড ক্রিসেন্টকে সম্পৃক্ত করে এই গণহত্যা ও ইচ্ছাকৃত অনাহার বন্ধ করতে হবে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬৮,৫০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই নারী ও শিশু। এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ফিলিস্তিনি দল হামাসের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং সমস্যার প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।