রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। 

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম আজ বিকেলে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যা দেশের আর্থিক খাতে এক বিশাল আলোড়ন তৈরি করেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে গত বছরের ২০ অক্টোবর এই মামলায় ড. বারকাতসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। গত ১৫ জানুয়ারি আদালত সেই চার্জশিট আমলে নিয়ে ২৫ জনের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করেন। 

একই সঙ্গে আদালত আগামী ৪ মার্চ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন। এই মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ড. বারকাত। শুনানির সময় তাকে আদালতে হাজির করা হলেও তার আইনজীবীর করা জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে বিচারক তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসানসহ জনতা ব্যাংকের সাবেক বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। 

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. ইমদাদুল হক এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ। এছাড়া অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ বাদলসহ মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও এই তালিকায় রয়েছে। মূলত ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিপুল অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে আসছে।

মামলার নথিপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেছিলেন। জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ৫৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে যা বর্তমানে সুদ ও আসলে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকায়। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে যে ঋণের এই অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত এখন আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রদান করায় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচার প্রক্রিয়া নতুন গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।