শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
অপ্রতিম হত্যা মামলা

অপ্রতিম হত্যা মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে পুলিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

অপ্রতিম হত্যা মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে পুলিশ

 কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। আলোচিত ও সংবেদনশীল এই মামলার তদন্তভার এখন পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঘটনার পর সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলামকে প্রথমে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে মামলার গুরুত্ব ও দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। এখন থেকে মামলাটি পরিচালনা করবেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। এক-দুই দিনের মধ্যেই পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে মামলার সমুদয় নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানিয়েছেন, দাপ্তরিক আদেশ জারির পর প্রয়োজনীয় নথি হাতে পেলেই তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবেন। প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্রুততম সময়ে গুছিয়ে এনে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেছে। তবে এর নেপথ্যে আরও কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে স্মার্টফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি গভীর জঙ্গল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের রাতেই থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত সিসি ক্যামেরার দৃশ্য এবং মুঠোফোনের সূত্র ধরে পুলিশ সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), জড়িত সন্দেহে মো. সিয়াম (১৯) এবং আইনগত কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে আটক করে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দামি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে নির্জন স্থানে নিয়ে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন আদালতে গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তিনজন সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে আদালতের নির্দেশে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্ক অপর দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।