ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। দুই দফা রিমান্ড শেষে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুবেল আহমেদ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রিমান্ড শেষে রুবেল হাদি হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতা ও পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা জানান, রুবেল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হয়েছিল।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
16092
এর আগে ডিবি পুলিশ এই মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দিলেও বাদীপক্ষ তাতে অসন্তোষ জানিয়ে ‘নারাজি’ দাখিল করেন। বাদীর অভিযোগ ছিল, মূল পরিকল্পনাকারীদের বাদ দিয়ে দায়সারা তদন্ত করা হয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। সিআইডির তদন্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসছে। হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য ও আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানের কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা।
রুবেল আহমেদের এই স্বীকারোক্তির পর হাদি হত্যার মূল মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পলাতক থাকা প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সিআইডি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন