রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছর কারাদণ্ড

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছর কারাদণ্ড

সাজা পেলেন যুবলীগ নেতা সম্রাট

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার ছয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে সম্রাটের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন যে, পৃথক দুই ধারায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছর সাজা ভোগ করতে হবে এবং একটি ধারার সাজা শেষ হওয়ার পর অন্য ধারার সাজা শুরু হবে। বর্তমানে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এই মামলায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করা হয়েছিল। মামলায় অভিযোগপত্রে উল্লিখিত মোট ২১ জন সাক্ষীর সবার সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেছে আদালত। 

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। গত বছরের ১৭ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছিল। অভিযোগ গঠনের সময় আসামি উপস্থিত না থাকায় তখনই তার জামিন বাতিল করে পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে বিচার চলাকালীন আদালতে নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় তাঁর জামিন বাতিল হয়। আজকের রায়ের সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন, যার ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচারক এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। এই রায় কার্যকর করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।