রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ

আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে হত্যার পর ভ্যানে করে নিয়ে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এর সদস্যরা আজ রবিবার ৫৯১ পৃষ্ঠার এই রায়ে স্বাক্ষর করেন। 

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলার সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত অপরাধের ভয়াবহতা এবং আসামিদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ। এ ছাড়া এসআই আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়াকে সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা হয়েছে। 

এই ছয়জনের বাইরে আদালত আরও সাতজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত এসপি আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত এসপি মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, নির্মল কুমার দাস ও মো. আরাফাত হোসেন।আদালত এই মামলায় ১৬ জন আসামির মধ্যে দুজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। 

সাজাপ্রাপ্ত এই দুজন হলেন সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসান। অন্যদিকে আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে আদালত ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তিনি এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছেন যে অভিযুক্ত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণ প্রসিকিউশন পক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি। মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন পরিচালনায় সহায়তা করার অপরাধে তাদের সাজা কিছুটা কমানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে সাজ্জাদ হোসেন, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেনসহ ছয়জন নিহত হন। পরে একটি ভ্যানে করে তাদের লাশ স্তূপ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ওই ভ্যানে একজন গুরুতর আহত ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ছিলেন বলেও সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে।

 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ রায়। এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছিল। বর্তমানে এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে আটজন কারাগারে থাকলেও সাবেক এমপিসহ বাকি আটজন এখনও পলাতক রয়েছেন।