মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতে সংঘটিত বহু মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাগণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। তিনি বলেন যে এক-এগারো এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন ধ্বংস করাসহ আয়নাঘরে নির্যাতন, খুন ও গুমের মতো অপকর্মের সঙ্গে এই দুই কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
বর্তমানে তারা অন্য মামলায় পুলিশি রিমান্ডে থাকলেও তাদের অতীতের সব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান যে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায় সেজন্য তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই ট্রাইব্যুনাল-২ এ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা এবং শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৭ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো প্রকার দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি এই বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা হতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সংবাদ সম্মেলনে আবু সাঈদ হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর জানান যে এই মামলার রায় আগামী ৯ তারিখ প্রদানের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
মামলার তদন্ত ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। তবে একজন আসামির বিষয়ে পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আলাদা তদন্ত ও গ্রেপ্তারের আবেদন করা হবে। ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে বিগত সরকারের সময় যারা পর্দার আড়ালে থেকে অপরাধের মূল হোতা হিসেবে কাজ করেছে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন