বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানি শেষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানি শেষ

শুনানিতে শামীম ওসমান

জুলাই আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আইনি প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। 

শুনানি শেষে আদালত আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। 

তারা দাবি করেন, গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দমন করতে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আবেদন জানানো হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে সরাসরি উসকানি, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক দাপুটে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। তাকেই এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শামীম ওসমানের পাশাপাশি আসামির তালিকায় আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। এর মধ্যে তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন ওরফে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের ওই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা এবং প্রাণহানির ঘটনায় এই পরিবারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।

আদালতের এই শুনানিকে কেন্দ্র করে সারা দেশের মানুষের বিশেষ নজর রয়েছে ট্রাইব্যুনালের দিকে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারগুলো এই বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৩ এপ্রিল আসামিপক্ষের শুনানি গ্রহণ করবেন, যেখানে শামীম ওসমানসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের আইনি প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ পাবেন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে ওসমান পরিবারের দীর্ঘ প্রভাব থাকলেও এই প্রথম কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাই আন্দোলনের হতাহতের ঘটনায় এটি অন্যতম বড় একটি বিচারিক প্রক্রিয়া। আগামী ২৩ এপ্রিলের শুনানির ওপর নির্ভর করছে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ কোন দিকে মোড় নেবে। ঘটনার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রসিকিউশন পক্ষ এই মামলার স্বপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষী হাজিরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।