মে ১২, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত শুনানির জন্য আগামী ২১ জুন নতুন দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। এ উপলক্ষে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়। তবে শুনানির শুরুতেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সালমান এফ রহমানের আইনজীবী সজিবুল ইসলাম আদালতকে জানান, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহ করে নথি পর্যালোচনা শেষ না হওয়ায় তারা অব্যাহতির আবেদন প্রস্তুত করতে পারেননি। অন্যদিকে আনিসুল হকের আইনজীবী সুমন হোসেন জানান, তাদের সিনিয়র আইনজীবী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুনানি করা সম্ভব হচ্ছে না।
আদালত উভয় পক্ষের আবেদন বিবেচনা করে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় জড়িত আসামিরা সদরঘাট ২ নম্বর মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ অবস্থান করছেন। সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করেন এবং হাতেনাতে আটক হন।
আটকের পর আনিসুল হকের ব্যাগ থেকে ১৭ হাজার ৫৯২ মার্কিন ডলার ও ৭২৬ সিঙ্গাপুর ডলার জব্দ করা হয়। একই সময়ে সালমান এফ রহমানের কাছ থেকে ১২ হাজার ৬২৪ মার্কিন ডলার, ৬২০ সুইস ফ্রাঙ্ক, সাড়ে ৮ হাজার দিরহাম, ১৩ লাখ উজবেকিস্তানি সোম, ১১ হাজার ৬৫০ সৌদি রিয়াল, ৭৭৯ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৫০ পাউন্ড, ১৩২১ ইউরো এবং ৩৩২০ থাই বাথসহ আরও কিছু মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নিউমার্কেট থানার এসআই মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর ডিএমপির কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিরা সচেতনভাবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এসব বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। জব্দ করা মুদ্রার বিষয়ে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠন বা চার্জ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন