অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০২:১৬ পিএম
সন্তান অবাধ্য হলে বা কথা না শুনলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক। এটি প্রায় প্রতিটি পরিবারের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই সঠিক পথে রাখতে শাসনের প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেই শাসন যদি রাগের বশবর্তী হয়ে মারধরে রূপ নেয়, তবে তা ভালোর চেয়ে খারাপই বেশি করে। মনোবিদরা বলছেন, শিশুকে মারধর করলে বা অকারণে বকাঝকা করলে সে আরও বেশি জেদি এবং একরোখা হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের আচরণ বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের মানসিক দূরত্ব তৈরি করে এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর সুস্থ বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মারধরের বদলে কার্যকরী এবং মানবিক পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। এর প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো বাবা-মায়ের নিজের রাগ সামলানো। সন্তান যখন অবাধ্য আচরণ করে, তখন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো বা চিৎকার করার বদলে অভিভাবককে প্রথমে নিজেকে সংযত করতে হবে। খুব বেশি রেগে গেলে গভীর শ্বাস নেওয়া বা কিছুক্ষণের জন্য সেই স্থান ত্যাগ করা যেতে পারে। কারণ রেগে গিয়ে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত বা শাস্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শান্ত মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই সবচেয়ে জরুরি।
দ্বিতীয়ত, সন্তানকে তার ভুলের জন্য শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, তবে তা হতে হবে নিরাপদ ও শিক্ষামূলক। উদাহরণস্বরূপ, সন্তান যদি খেলতে গিয়ে পড়াশোনা না করে, তবে তাকে মারার বদলে তার খেলার সময় কিছুটা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। অথবা সে যদি খাবার নিয়ে অতিরিক্ত জেদ করে, তবে তাকে জোর না করে কিছুক্ষণের জন্য খাবার না দিয়ে রাখা যেতে পারে। যখন তার সত্যিই খিদে পাবে, সে নিজের ভুলের গুরুত্ব ও খাবারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারবে।
একইসাথে, সন্তান কেন এমন আচরণ করছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলতে হবে, তার মনের ভাব বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অনেক সময় বাবা-মায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্যও শিশুরা জেদ করে থাকে।শিশুদের ভদ্রতা, শিষ্টাচার এবং বড়দের কথা শোনার গুরুত্ব শেখানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খেলার ছলে শিক্ষা দেওয়া। বিভিন্ন গল্প বা মজার ছকের মাধ্যমে তাকে বোঝাতে হবে কোনটি ভালো আচরণ আর কোনটি খারাপ।
কেন সব সময় জেদ বা বায়না করা ঠিক নয় এবং কেন পরিবারের সবাইকে সম্মান করতে হয়, তা খেলার মাধ্যমে শেখালে শিশুরা তা দ্রুত গ্রহণ করে। মনে রাখতে হবে, ধৈর্য ধরে সঠিক উপায়ে শাসন করলে সন্তান যেমন নিজের ভুল বুঝতে শেখে, তেমনই বাবা-মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও মজবুত ও আস্থার হয়ে ওঠে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন