শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
সানি হত্যা মামলা

সানি হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে উত্তাল পাকুন্দিয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

সানি হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে উত্তাল পাকুন্দিয়া

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চাঞ্চল্যকর সানি হত্যা মামলার আসামিদের জামিন বাতিল, দ্রুত পুনঃগ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর সদর বাজার প্রদক্ষিণ করে পাকুন্দিয়া থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরবর্তীতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আশ্বাসে তারা কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

হত্যাকারীদের কোনো ধরনের ছাড় নেই। বিক্ষোভ মিছিলের আগে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিহত যুবকের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার, দুই শিশুসন্তান তালহা ও তারিফ, মামাতো ভাই জসীম উদ্দিন আপেল, চাচা নুরুল ইসলাম ও আব্দুল আওয়াল, এবং মা পারভীন আক্তারসহ স্থানীয় শতাধিক গ্রামবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় মফিজুল, নজরুল, আজিজুল ও মকবুলসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। ঘটনার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও তাদের মধ্যে তিনজন এরই মধ্যে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসামিরা প্রকাশ্যে তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন এবং তার ছোট ভাইকেও প্রাণনাশের ভয় দেখাচ্ছেন। প্রভাবশালী আসামিপক্ষ প্রায় ত্রিশ লাখ টাকায় জমি বিক্রি করে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী আরও জানান, ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চার আসামির জামিন প্রক্রিয়া এবং এক নম্বর আসামির তৈরি করা জবানবন্দির মাধ্যমে তার নিহত স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সম্মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে একাধিক আক্রমণকারীর সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা মাত্র একজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা পুরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত এবং জড়িত সকল অপরাধীর কঠোর বিচার দাবি করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তেইশ এপ্রিল রাত আটটার দিকে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলিয়া গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে কাতারপ্রবাসী হাদিউল ইসলামের বাইশ বছর বয়সী ছেলে সানিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও তিনজন পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান জানান, আসামিরা জামিনে বের হয়ে বাদীকে হুমকি দিচ্ছে এমন অভিযোগ জানার পর আদালতের মাধ্যমে জামিন বাতিলের লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং কোনো নির্দোষ বা দোষী ব্যক্তির ক্ষেত্রে পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাদীর পরিবারের কোনো সুনির্দিষ্ট অনাস্থা থাকলে কর্মকর্তা পরিবর্তন করে অন্য কাউকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।