রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাড়ে ১৫ মাসে সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১২:৩৭ পিএম

সাড়ে ১৫ মাসে সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অন্তর্বর্তী সরকারের বিগত সাড়ে পনেরো মাসের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা বিভিন্ন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও সমালোচনার জবাবে এই সাফল্যগুলোর একটি দীর্ঘ তালিকা দেন।

তিনি দাবি করেন, এই সরকার তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে অতীতের অন্য যেকোনো সরকারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।শফিকুল আলম তার পোস্ট শুরু করেন সরকারকে নিয়ে প্রচলিত সমালোচনাগুলো উল্লেখ করে।

তিনি লেখেন, অনেকেই এই সরকারকে ‘নামেই অন্তর্বর্তী সরকার’ বা ‘এনজিও-গ্রাম’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে দুর্বল প্রশাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সরকারকে ‘ভীতু’, ‘নবীন ও অদক্ষ’ এবং ‘কিছু না করা, মাখন-খাওয়া দল’ বলেও অনেকে উড়িয়ে দিয়েছেন, যারা কেবল ‘কপালগুণে ক্ষমতায়’ এসেছে।এইসব সমালোচনার জবাবে প্রেস সচিব লেখেন, ‘তবুও, যখন আমি পেছনে তাকাই তখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলি—এটি বহু দশকের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সরকারগুলোর একটি। তারা প্রায় সবকিছুই অর্জন করেছে, যা করার লক্ষ্য নিয়েছিল।’

তিনি তার দাবির সপক্ষে একগুচ্ছ অর্জনের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং বিপ্লব-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ করা। তিনি জানান, কোনো লবিং ফার্ম নিয়োগ না করেই মার্কিন ট্যারিফ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং মাত্র ১৫ মাসে রেকর্ডসংখ্যক আইন পাশ হয়েছে, যার মধ্যে ব্যাপক শ্রম সংস্কার অন্তর্ভুক্ত।

অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে ফিরেছে। ব্যাংকিং খাতের লুটপাট কমেছে, টাকা স্থিতিশীল হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশেষ করে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া, লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের একক বৃহত্তম বিনিয়োগ এসেছে, যা উৎপাদন খাতে রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

শাসনতান্ত্রিক অর্জন হিসেবে শফিকুল আলম জুলাই ঘোষণাপত্রকে একটি ঐতিহাসিক নতুন মঞ্চ এবং জুলাই চার্টারকে একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার ফলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো জামিন বা রাজনৈতিক মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই সরকারের আমলে গুম বন্ধ হয়েছে, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে এবং গত ১৬ মাসে একটিও ‘সাজানো ক্রসফায়ার’ ঘটেনি। র‍্যাব এখন আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি করা থেকে সরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আদালতীয় প্রক্রিয়ায় অতীতের অপব্যবহারের জবাবদিহি শুরু হয়েছে এবং শেখ হাসিনাকে ‘তার জায়গা দেখানো হয়েছে’।প্রেস সচিব তার পোস্ট শেষ করেন এই বলে যে, ‘বাংলাদেশের কোনো সরকারের পক্ষেই এত কম সময়ে এত কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়নি, যতটা অন্তর্বর্তী সরকার এই পনেরো-সাড়ে পনেরো মাসে করেছে।’