রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আলেম-ওলামাদের মেহনত ব্যর্থ হয়নি: ধর্ম উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১০:৪২ পিএম

আলেম-ওলামাদের মেহনত ব্যর্থ হয়নি: ধর্ম উপদেষ্টা

আলেম-ওলামাদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, ৫৪ বছর ধরে নিপীড়ন, নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হওয়ার পরেও দেশে ইসলামি শক্তি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছে। তার মতে, 'পূর্ব দিগন্তে নতুন সূর্য উঁকি দিচ্ছে, ওঠা বাকি মাত্র।

 এই সময় দেশের ইসলামি ভাবধারার অনুসারীদের ঐক্য ধরে রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশ মসজিদ মিশন আয়োজিত।

‘মুসলিম পারিবারিক আইন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ধর্ম উপদেষ্টা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন সম্পর্কে তার মতামত তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এই আইনের অনেক ধারা সরাসরি ইসলামি শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নের সময় যারা ওলামায়ে কেরাম ছিলেন, তারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান অনেকটা গায়ের জোরে এই আইন পাস করেন।তালাক-পরবর্তী হিলা বিয়ে নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। ড. খালিদ হোসেন বলেন, হিলা বিয়ে শরিয়তে হারাম।

তিনি জানান, তালাকের পর স্বামী-স্ত্রী অনুতপ্ত হয়ে যখন ফিরে আসতে চান, তখন এক শ্রেণির মানুষ শরিয়তের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীদেরকে হিলা বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করেন। তিনি এটিকে নারীর প্রতি অবমাননাকর এবং ইসলামের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেন।আইন ও বিচার প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইসলামি শরিয়তে দণ্ডবিধি আরোপ করার ক্ষমতা কোনো আলেম কিংবা মুফতির নেই। তাদের কাজ হলো কেবল ফতোয়া দেওয়া এবং কুরআন-হাদিসের বর্ণনা তুলে ধরা। বিচার করবে আদালত এবং আদালতের রায় কার্যকর করার দায়িত্ব প্রশাসনের। এই বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানান।

শরিয়াহ আইন প্রচলনের দাবি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এই দাবি ৫৪ বছর ধরে করা হচ্ছে এবং দাবি জানাতে কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি মনে করেন, যতদিন পর্যন্ত সংসদের অধিকাংশ আসন শরিয়ত মেনে চলা মানুষ দিয়ে ভর্তি না হবে, ততদিন শুধু দাবি জানিয়ে কোনো লাভ হবে না। এজন্য তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন। তার মতে, মাত্র একজন বা দুজনকে দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এবিএম মাহবুবুল ইসলাম। প্রধান আলোচক হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন। এই সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।