ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ১০:৫৩ পিএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের লাগাতার আন্দোলন স্থগিত করে রোববার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হঠাৎ করেই আন্দোলনের যুক্ত ৪২ জন শিক্ষক নেতাকে শাস্তিমূলক বদলির আদেশ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই বদলির কারণে শিক্ষকরা মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেছে।প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মাহবুবর রহমান বলেন, "কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাদেরই সন্তান। তাই তাদের ক্ষতি না করে রোববার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা চলবে।
দুই দিন পিছিয়ে গেছে; কিন্তু এতে কোনো সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে আমরা ছুটির দিনেও পরীক্ষা নিব।" তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,
নিয়োগ ও চাকরি বিধি উপেক্ষা করে তাদের ৪২ জন শিক্ষককে ১০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে বদলি করা হয়েছে, এতে শিক্ষকরা মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার তাদের ন্যায্য দাবিকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করে হয়রানি করছে।এর আগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবির আন্দোলন চলমান অবস্থায় ভিন্ন জেলায় বদলি করা হয় আন্দোলনে যুক্ত ৪২ শিক্ষককে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ ডিসেম্বরের আদেশে এই বদলি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওই তালিকায় আন্দোলনের পাঁচ শীর্ষ নেতা খায়রুন নাহার লিপি, শামছুদ্দিন মাসুদ, আবুল কাশেম, মাহবুবর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামান রয়েছেন। সহকারী এই শিক্ষকদের ভিন্ন জেলায় বদলি করায় নিজ জেলায় থেকে চাকরি করার আর সুযোগ থাকছে না।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের সঙ্গে দশম গ্রেডের দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ যৌথ বিবৃতি দেয়। এই বিবৃতিতে তারা জানান, তাদের নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সন্তানতুল্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে রোববার থেকে তৃতীয় প্রান্তিক বা বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা গত ২৭ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন এবং ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে প্রায় তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন এবং তারা গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন