শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

তরুণ নেতা হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করল মার্কিন দূতাবাস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১২:২৫ পিএম

তরুণ নেতা হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করল মার্কিন দূতাবাস

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই শোকের মিছিলে সামিল হয়ে ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস আজ শুক্রবার এক বিশেষ বার্তায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এই তরুণ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। মা‌র্কিন দূতাবাস হাদির পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের প্রতি তাদের আন্তরিক সমবেদনা পৌঁছে দিয়েছে।

হাদি ছিলেন এমন একজন নেতা যার সাহস ও ত্যাগ তরুণ সমাজকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল।শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আততায়ীর বুলেটে বিদ্ধ হওয়ার পর টানা সাত দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা ধরে রাখার লক্ষ্যে তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গড়ে তুলেছিলেন যা খুব অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। হাদির এই চলে যাওয়া কেবল তার পরিবারের জন্য নয় বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

হাদির মৃত্যুর খবরটি গত রাতেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে শুরু করে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল হাদির এই অকাল বিদায়ে শোকস্তব্ধ। রাষ্ট্রীয়ভাবে আজ তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে এবং আগামীকাল সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে হাদির অবস্থান কতটা গভীর ছিল।

এদিকে হাদির ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে এই হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তরুণ এই নেতার অকাল মৃত্যুতে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গন নয় বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও শোক বার্তা পাঠাচ্ছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের এই শোক প্রকাশ মূলত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহমর্মিতারই বহিঃপ্রকাশ। হাদির রক্ত ও ত্যাগ চব্বিশের বিপ্লবের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।