রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা: জ্বালানি উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা: জ্বালানি উপদেষ্টা

সচিবালয়ে মঙ্গলবার সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলে কারসাজি করে এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে।

বাজারে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং সরকার একে একটি কৃত্রিম সংকট হিসেবে দেখছে। সোমবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সরকার ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

উপদেষ্টা পরিষ্কার করে বলেন যে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলে এই কারসাজি করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনেক ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন প্রশাসন সেই দোকানগুলো খোলার ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফাওজুল কবির খান জানান যে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের অনেক ক্ষেত্রে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে জেলা প্রশাসন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং পুলিশ বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নজরদারি চলবে এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন যে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বা বিইআরসির কেউ এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে এবং সরকারি অংশ মাত্র ২ শতাংশ। ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে প্রাপ্ত কাঁচামাল দিয়ে সরকারি সিলিন্ডারগুলো বাজারজাত করা হয়। বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন ও আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে তবে শীতের কারণে পাইপলাইনে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়।

উন্নত দেশগুলোতে শীতকালে পাইপলাইন হিট করার ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে সেই প্রযুক্তি নেই। তবে এলপি গ্যাসের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দাম বাড়ানো হয়েছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।