জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিসহ ৪টি রাজনৈতিক দলকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। এই তালিকার অন্য দুটি দল হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
মঙ্গলবার এই চার দলের দলীয় প্রধানের কাছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে এই সতর্কবার্তার কথা জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে জনসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার চালানোর অভিযোগে এই পদক্ষেপ নিল কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাদের অভিযোগে বলা হয় কমিশন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ।
কিন্তু জামায়াত এনসিপি ও অন্য দুটি দল এই নিয়ম উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে ইসি তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো দেশের বিদ্যমান নির্বাচনি আইনের পরিপন্থী।ইসির পাঠানো চিঠিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে এসব কার্যক্রম ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ১৮ নম্বর বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
আইন অনুযায়ী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের আগে কোনো প্রার্থী বা দল পোস্টার ব্যানার কিংবা কোনো প্রকার জনসংযোগমূলক প্রচারণা চালাতে পারে না। ভবিষ্যতে এই ধরণের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে কমিশন অভিযুক্ত দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও চিঠিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। কমিশনের এই কঠোর অবস্থান মূলত সব দলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া। সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেও যদি কোনো দল বা প্রার্থী পুনরায় আচরণবিধি ভঙ্গ করে তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে নতুন করে সজাগ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন