সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পে স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

পে স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা

৯ম পে-স্কেল ঘোষণা এবং ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবার কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তারা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয়। 

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসলেও সরকার তাদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং কমিটি গঠন এবং নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। তিনি তার বক্তব্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং গত ১ জানুয়ারি থেকে তা ভূতাপেক্ষভাবে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। 

কর্মচারীরা বিশেষ করে জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, জ্বালানি উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন যে ‘বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন স্তিমিত রাখতে কেবল কমিশন গঠন করা হয়েছিল’। এই বক্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা এবং অসম্মানের সৃষ্টি করেছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। তারা অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করারও দাবি জানান।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশের সব সরকারি দপ্তরের সামনে ২ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করা হবে। এই সময়ের মধ্যে দাবি মানার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের কথা থাকলেও সেটি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন। তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বলে তারা দাবি করেন।

সমাবেশ থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের এই কর্মসূচি সফল করতে সারা দেশের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরণের স্থবিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।