ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
জুলাই সনদ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। অধ্যাপক রীয়াজ বলেন যে তরুণরা রাজপথে নেমেছে, যে শ্রমিকেরা প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে এবং যে বাবা তার ছেলেকে মিছিলে পাঠিয়ে প্রার্থনায় বসেছিলেন, তাদের সবার কাছে রাষ্ট্র ঋণী।
আর সেই ঋণের নামই হলো ‘জুলাই সনদ’। এর পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এটি নিছক কোনো দলিলে লেখা অক্ষর নয় বরং এটি একটি জাতির শপথের নাম।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে আসন্ন গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে এবং জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্য জুলাই সনদের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন থেকে মুক্ত স্বদেশ গড়ার লড়াইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন বা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তারা আমাদের ওপর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আগামী ৪০ বছরের জন্য মাতৃভূমির গতিপথ নির্ধারণ করার এখনই সময়।আগের সরকারের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে আলী রীয়াজ বলেন ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংশোধনের জন্য কমিটি করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছিল।
এক ব্যক্তির ইচ্ছায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার মাধ্যমে সংবিধানকে একটি ছেলেখেলায় পরিণত করা হয়েছিল। একইভাবে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে তিনটি তামাশার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সার্চ কমিটির সুপারিশ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন এসব প্রহসনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে সেজন্যই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন