মার্চ ৪, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় নয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জানান, দেশের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তিতে সংশোধন, সংযোজন কিংবা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির কিছু দিক ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে ভূমিকা রাখবে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় এই আলোচনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সরকার।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বড় অংকের রপ্তানি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিমাণ প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলার।
বৈঠকে পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতায় উভয় পক্ষেরই কিছু না কিছু স্বার্থ জড়িত থাকে। কোনো ধারা এক পক্ষের অনুকূলে যায়, আবার কোনোটি অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মূল লক্ষ্যই থাকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানো।
মার্কিন আদালতে জরুরি ক্ষমতার অধীনে আরোপিত শুল্কসংক্রান্ত রায়ের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। সরকার এসব বাধা চিহ্নিত করে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা সম্ভব হলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
এতে উন্নয়ন সহায়তা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।ভিসা বন্ড ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী জানান যে, বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সরকার চায় দুই দেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা বা সামরিক কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তায় কিছু প্রসঙ্গের উল্লেখ থাকলেও প্রতিরক্ষা বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়। সবশেষে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা আগামীতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন