রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা চূড়ান্ত: সুবিধা পাবেন না যারা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা চূড়ান্ত: সুবিধা পাবেন না যারা

ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ শীর্ষক নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মূলত ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই নতুন এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে যা দ্রুতই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।সরকার ঘোষিত এই নতুন নীতিমালায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিম্ন-মধ্যম ও উচ্চ আয়ের ছয়টি বিশেষ শ্রেণিকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। 

নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী কোনো পরিবারের কোনো সদস্য যদি সরকারি পেনশনভোগী হন তবে তারা এই কার্ড পাবেন না। এছাড়া বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা ব্যক্তিগত গাড়ি ও বিলাসবহুল সম্পদের মালিকরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন না। 

পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে অথবা পরিবারের প্রধান যদি কোনো বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মালিক হন তবে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।গাইডলাইনে সাতটি বিশেষ শ্রেণিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এবং যে পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে তারা সবার আগে এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মতো অনগ্রসর পরিবার এবং যাদের জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক পাঁচ একরের নিচে তারাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। 

সুবিধাভোগী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের খানা জরিপ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডেটাবেইস ব্যবহার করা হবে। এনআইডি কার্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত করা হবে।

নতুন এই পদ্ধতিতে সরকারি কোষাগার থেকে ভাতার অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪টি উপজেলার নির্ধারিত ওয়ার্ডের হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা আড়াই হাজার টাকা করে এই সহায়তা পাবেন। বর্তমানের টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলোও ভোগ করা যাবে।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি ভিন্নধর্মী এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে যার মধ্যে ঢাকার কড়াইল বস্তি, চট্টগ্রামের পটিয়া শিল্প এলাকা, বান্দরবানের লামা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকা রয়েছে। দারিদ্র্যের ঘনত্ব ও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে এই এলাকাগুলো বাছাই করা হয়েছে। এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ডে’ রূপান্তর করা। সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।