শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

ফিলিং স্টেশনে তেলের সীমা বেঁধে দিল বিপিসি: কোন গাড়ি কত লিটার নিতে পারবে

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৬, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

ফিলিং স্টেশনে তেলের সীমা বেঁধে দিল বিপিসি: কোন গাড়ি কত লিটার নিতে পারবে

তেল বিক্রিতে নতুন নিয়ম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক দূর করতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিক্রির নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি। 

শুক্রবার এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিপিসি এই নতুন নির্দেশনা জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বিধায় বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কোনো প্রকার অপচয় বা অতিরিক্ত মজুদ কাম্য নয়।

বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে একটি মোটরসাইকেলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ লিটার। 

গণপরিবহন ও বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এর আওতায় পিকআপ ও লোকাল বাসগুলো প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কন্টেইনারবাহী লরিগুলো ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। মূলত ফিলিং স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় কমানো এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা রুখতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।বিপিসি জানিয়েছে কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

ফিলিং স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা প্রতিটি বিক্রির বিপরীতে অবশ্যই নগদ স্মারক বা ক্যাশ মেমো প্রদান করে। কোনো যানবাহন দ্বিতীয়বার তেল নিতে আসলে তাকে আগের ক্রয়ের বিলের কপি প্রদর্শন করতে হবে। ডিলারদেরও কঠোরভাবে কোটা মেনে চলতে বলা হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে তাদের মজুদ ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জমা দিতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিলে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।

বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসি আশ্বস্ত করেছে যে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তেলের চালান দেশে আসছে। প্রধান ডিপো থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে সারা দেশের আঞ্চলিক ডিপোগুলোতেও তেল পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই পর্যাপ্ত বাফার মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়া এবং কোনো ধরণের গুজবে কান না দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।