বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৭, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবময় দিন। একাত্তরের এই দিনে তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে মুক্তিপাগল বাঙালি জাতিকে চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে উত্তাল সেই জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের আহ্বানে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে মুক্তিকামী মানুষ। 

তার সেই ভাষণেই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং পরাধীনতার অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে।

৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন যে, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেওয়া এই ভাষণটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দেয়। 

নিরস্ত্রী বাঙালি জাতিকে একটি সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে এই বার্তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা লাখো মানুষের মুহুর্মুহু স্লোগানে সেদিন প্রকম্পিত হয়েছিল বাংলার আকাশ। এই ভাষণের পরেই দেশজুড়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং সাধারণ মানুষ অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়।

এই ভাষণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৭ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটি এখন কেবল বাঙালির সম্পদ নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সমাদৃত। ৭ই মার্চের ভাষণের পর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নির্বিচারে বাঙালি নিধনের ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করলেও বীর জনতা ৯ মাসের দীর্ঘ সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী এই ভাষণটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।