মার্চ ৭, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট চরম সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত কয়েক দিনে সর্বমোট ২৬৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, এর মধ্যে আজ শনিবার সকাল থেকে অন্তত ২০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার সাথে এই দেশগুলোর বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বেবিচকের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার ছয়টি এবং বাহরাইনগামী গালফ এয়ারের দুটি ফ্লাইট।
এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজের চারটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইনসের আরও চারটি ফ্লাইট আজ ঢাকা থেকে উড়াল দিতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে তৈরি হওয়া এই নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সময়সূচিতেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থাটি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত তাদের সকল ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।
এর আগে ৫ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখার কথা থাকলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইনস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা বর্তমানে আঞ্চলিক আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার পর সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সংস্থাটি তাদের রুট নেটওয়ার্কের প্রায় ৬০ শতাংশ পুনরায় চালু করেছে এবং ৮৩টি গন্তব্যে প্রতিদিন গড়ে ১০৬টি রিটার্ন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কার্যক্রম পরিচালনা পুরোপুরি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমার প্রাপ্যতা এবং অপারেশনাল শর্ত পূরণের ওপর। নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এমিরেটস বর্তমানে নিশ্চিত বুকিং ছাড়া যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫ মার্চ তারা দুবাই থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হয়েছে।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটের এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স বা কল সেন্টারের সাথে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের বড় একটি অংশ এই সংকটের কারণে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বিশেষ করে যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন, তাদের ভিসার মেয়াদ ও কর্মস্থল রক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বেবিচক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন প্রোটোকল অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে অযথা ভিড় না করতে অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন