সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খাল দখলদারদের নিজ উদ্যোগে সরে যাওয়ার নির্দেশ সরকারের

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৮, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

খাল দখলদারদের নিজ উদ্যোগে সরে যাওয়ার নির্দেশ সরকারের

খাল উদ্ধারে কঠোর হুঁশিয়ারি

ঢাকার খাল দখল করে যারা বাড়ি বা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের অতি দ্রুত নিজ উদ্যোগে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। 

এ ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযানের সময় কোনো ধরনের আর্থিক বা কাঠামোগত ক্ষতির সম্মুখীন হলে তার দায়ভার কোনো সরকারি সংস্থা বহন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত রাজধানীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে রাজধানীর মান্ডা খাল এলাকায় দেখা গেছে, এক সময়ের স্বচ্ছ জলের এই খালটি এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলায় খালটি ভরাট হয়ে গেছে এবং এর ওপর দিয়ে এখন অবলীলায় মানুষ যাতায়াত করছে। 

প্রভাবশালী দখলদাররা খালের জায়গা দখল করে রাস্তা ও ভবন নির্মাণ করায় এর প্রশস্ততা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। কোথাও খালের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ৩০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কোথাও পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দখল ও দূষণের এই চিত্র রাজধানীর প্রায় সব খালের ক্ষেত্রেই বর্তমান পরিস্থিতির একটি সাধারণ প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সব খাল উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা অবৈধভাবে খালের জায়গা দখল করেছেন তারা দ্রুত নিজেদের স্থাপনা সরিয়ে নিন। প্রশাসন উচ্ছেদ শুরু করলে যে ক্ষতি হবে তার দায়ভার কেউ নেবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে অবৈধ দখলদাররা শুধু সরকারি সম্পত্তিই নষ্ট করছে না বরং তারা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই দখলদারদের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, ভবিষ্যতে যেন কেউ পুনরায় খাল দখল করতে না পারে সে জন্য একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি জবরদখলমুক্ত করতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। যারা এর মধ্যেই দখল করেছেন তাদের সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় বড় ধরনের পুনরুদ্ধার অভিযান শুরু হবে। 

এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, দখলদারদের কেবল উচ্ছেদ নয় বরং তাদের ওপর বড় অংকের আর্থিক জরিমানা আরোপ করা উচিত। তার মতে, খালকে জীবন্ত সত্তা বিবেচনা করে দখলদারদের জেলদণ্ড দেওয়া হলে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস দেখাবে না। রাজধানীর খালগুলোর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বজায় রাখতে অব্যাহত নজরদারি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।