মার্চ ১৯, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথেও। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে আজ পর্যন্ত বাতিল হওয়া মোট ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৪টিতে।
আজকের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কুয়েতের জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাই দুবাই ও এয়ার এরাবিয়ার যথাক্রমে ৪টি ও ৬টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া বিশ্বখ্যাত এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি এবং কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি ও বাহরাইনের গালফ এয়ারের ২টি ফ্লাইট উড্ডয়ন করতে পারেনি।
যুদ্ধাবস্থার কারণে আকাশপথ ব্যবহারের অনুপযুক্ততা এবং বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিধিনিষেধের ফলে একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বেবিচকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় গত কয়েক সপ্তাহে নিয়মিত বিরতিতে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে থাকছে। বিশেষ করে মার্চের প্রথম সপ্তাহে আকাশপথ বন্ধের প্রভাবে এই সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি ছিল।বর্তমানে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা পুরোপুরি উন্মুক্ত করেনি।
এই সাতটি দেশের আকাশপথ বন্ধ থাকায় এই শিডিউল বিপর্যয় আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে দেশে ফেরা বা কর্মস্থলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী শ্রমিকসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিমানবন্দরের টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফ্লাইট না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত এই সংকটের স্থায়ী কোনো সুরাহা হওয়া সম্ভব নয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন